গার্লফ্রেন্ডকে বা বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে আজ কোন রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন, খাবারের কি কি মেনু ছিলো, কিংবা কি গিফট দিয়েছেন সেসব কি আপনি বন্ধুদের কাছে শেয়ার করেন? কিংবা ফেসবুকে পোস্ট করেন?

অনেকেই করেন। বিশেষ ঘোষণা টিভি নাটকের কল্যাণে এসব আজ ডালভাত। অন্যায় কাজ করার পর তা প্রচার করা মানে আল্লাহর আজাবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। অন্যায় করাটা গোনাহ এবং তা প্রচার করা আরও ভয়াবহ গোনাহ।

যে গোনাহ করেছে, কিন্তু সে কাজের জন্য অনুতপ্ত হয়েছে,তা গোপন রাখার চেষ্টা করেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে সবার আড়ালে একান্তে জিজ্ঞেস করবেন, “তোমার কি এই এই গুনাহের কথা মনে আছে?”

সে বলবে, “আমার রব! আমি স্বীকার করছি, আমি গোনাহ করেছি”

আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, “আমি দুনিয়াতে তোমার পাপ গোপন রেখেছিলাম, আর আজকেও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।” (বুখারি, হাদিস নংঃ ৪৪০৮)

এবার আরেকটি হাদীস শুনুন।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “আমার উম্মাতের মধ্যে মুজাহারা ছাড়া সকলকে ক্ষমা করা হবে। মুজাহারা হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে রাতের আড়ালে কোনো গুনাহ করেছে আর আল্লাহ তার অপকর্মকে গোপন রাখলেন। কিন্তু লোকটি সকালে লোকদের ডেকে বলতে থাকল, ‘হে অমুক আমি রাতে এই এই… কাজ করেছি।’ রাতে তার রব তাকে গোপন করল আর সকালে সে আল্লাহর গোপন করা বিষয় প্রকাশ করে দিল।” (বুখারি, হাদিস নংঃ ৫৭২১)

গোনাহ করাটা একটা অবাধ্যতা এবং তা প্রচার করা আরও বড় অপরাধ। এখানে অবৈধ রিলেশন শুধু নয় যেকোনো গোনাহকেই বুঝানো হয়েছে।

তাই গোনাহ করার সাথে সাথে তাওবাহ করা এবং অবশ্যই গোনাহ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

একটি বানোয়াট কিসসা : আবুদ দারদা রা. তার কওমের লোকদের ঈমান আনা নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা
.
দ্বীন নিয়ে ফিকির করা বা মানুষের হেদায়েতের ফিকির করার ফযীলত হিসেবে কাউকে কাউকে নিম্নোক্ত কিসসাটি বলতে শোনা যায়-

একবার আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. মদীনাবাসী সকলকে দাওয়াত করলেন। তখন আবুদ দারদা রা. মসজিদে নববীতে মাথা নিচু করে বসে রইলেন। তা দেখে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবুদ দারদা! তুমি কী চিন্তা করছ, দাওয়াতে যাবে না?

তখন আবুদ দারদা রা. বললেন, আল্লাহর রাসূল! আমার কওমের সব লোক এখনো ইসলাম কবুল করেনি; আমি তাদের নিয়ে চিন্তা-ফিকির করছি।

একথা শুনে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবুদ দারদা! তোমার এই সামান্য সময়ের ফিকিরের মূল্য আবদুর রহমানের সকল মদীনাবাসীকে খাওয়ানোর চেয়ে উত্তম।

এটি একটি বানোয়াট কিসসা। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা পাওয়া যায় না।

মানুষের হেদায়েতের বিষয়ে ফিকির করা অনেক বড় নেক আমল এবং ফযীলতের বিষয় তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু তা পেশ করতে গিয়ে এজাতীয় বানোয়াট কিসসার অবতারণা করা উচিত নয়।
.
[ মাসিক আলকাউসার || সফর ১৪৪৩ || সেপ্টেম্বর ২০২১ ]
.
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

নিচের এই তালিকায় আছি কিনা নিজেই যাচাই করে নেন

⬛ আল্লাহ তা'য়ালার পচ্ছন্দনীয় ৭ টি গুণঃ

1⃣ তওবাঃ
"আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন"
( বাকারাঃ২:২২২ )

2⃣ তাহারাত ( পবিত্রতা):
"যারা পবিত্র থাকে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন"
( বাকারাঃ২:২২২ )

3⃣ তাক্বওয়া (আল্লাহ ভীতি):
"নিশ্চই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন"
( তওবাঃ৯:৪ )

4⃣ ইহসানঃ
"আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন"
(আল ইমরানঃ৩:১৩৪ )

5⃣ তাওয়াক্কুলঃ
"নিশ্চই আল্লাহ ভালোবাসেন তার উপর ভরসাকারীদের"
(আল ইমরানঃ৩:১৫৯ )

6⃣ ন্যায়বিচারঃ
"আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন"
( মায়িদাহঃ৫:৪২)

7⃣ সবরঃ
"আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের ভালোবাসেন"
(আল ইমরানঃ৩:১৪৬ )

আল্লাহ আমাদের সবাই কে তার মনোনীত বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুক ৷

দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সাবেক চিত্রনায়িকা ববিতা এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমি নিয়মিত নামাজ পড়ি, এমনকি তাহাজ্জুদের নামাজও পড়ি।

কিন্তু এই ইন্টারভিউয়ের প্রতিক্রিয়ায় কিছু কমেন্ট দেখুন।

১, চামড়া ব্যবসায় ধস নেমেছে বুঝি?
২, মুনাফেক, মুখে এক কাযে আরেক।
৩, বুড়ো হয়ে তোমার মত সবাই ইসলামের পথে আসে
৪, তাহাজ্জুদ পড়ে লাভ নাই
৫, এখন কি আগের বাজার দর নাই?
আরও কিছু কমেন্ট, যা উল্লেখ করতেও লজ্জা লাগে।

এইসব কমেন্ট যারা করেছেন তাদের বেশিরভাগ ইসলামপন্থী এবং প্রোফাইলে ঘুরে দেখলাম অনেকের মাথায় টুপি ও দাড়িও আছে।

এই মহিলাকে আরও কিছু লোক গালাগালি করছে সে সিনেমা থেকে কেনো ফিরে গেলো এবং কেনইবা ইসলামের অনুশীলন করার চেষ্টা করছে এইজন্য? গালাগালির ক্ষেত্রে নাস্তিক ও ইসলামপন্থী সবাই এক।

আরেকজন টিভি নাটকের অভিনেত্রী এনি খান নাটক ছেড়ে মাথায় হিজাব দিয়ে অনলাইন বোরকা বিক্রি করেন। এই মহিলাকে কি পরিমাণ গালাগালি করেন ইসলামী ভাই ও বোনেরা হিসেব নেই। কেনো ভাই এমন করেন কেনো?

আপনারা কি চান সিনেমা থেকে ফিরে আসা মানুষগুলো আবারও আগের জায়গায় ফিরে যাক? কেউ হেদায়েতের দিকে ফিরে এলে আপনার সমস্যা কি ভাই? আর চামড়া ব্যবসা বলে যে অশ্লীলতার ইংগিত দিচ্ছেন তা কি গোনাহের কাজ নয়?

আপনার ফাউল কমেন্টের কারণে যদি কেউ ইসলামের পথে এসেও ফিরে যায় সেই দায় দায়িত্ব নিবেন আপনি?

Copy from সাইমুম সাদি

কী হয়েছিল চন্দ্রনাথ পাহাড়ে?
কেন দুজন মাদ্রাসা-ছাত্রকে আটক করা হলো?
লিখেছেন মুহতারাম Sharif Mohammad হাফিঃ

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় কি আগাগোড়া কোনো 'হিন্দু পাহাড়'? সেখানে কি আজান দেওয়া এবং আজান দিয়ে সেটা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া আইনগতভাবে একেবারেই নিষিদ্ধ?
আজান দেওয়ার ছবিসহ ফেসবুকে 'স্বপ্নপ্রবণ' একটি পোস্ট দেওয়ার ঘটনাটিকে এত ভয়ঙ্কর অপরাধ হিসেবে না দেখলে কি চলত না?
বেড়াতে যাওয়া দুজন মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করে নিয়ে যেতেই হলো?
নানা কারণে নীরব ও মুখবন্ধ সময় যাচ্ছে, কিন্তু এ ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া কি ভালো?

সীতাকুণ্ড, চন্দ্রনাথ পাহাড়, চন্দ্রনাথ মন্দির, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় অন্যান্য মন্দির, সীতার কথিত 'দক্ষিণ হস্তের কুণ্ড' পড়ার জায়গা, হিন্দু তীর্থস্থান-এসব বিষয় গুগল করলে পাওয়া যায়। এসব দেখে এ কথাটা বোঝা যায়, পাহাড়টিতে হিন্দু ঐতিহ্য, মিথ, পূজা, তীর্থ ইত্যাদির একটি প্রাবল্য রয়েছে। কিন্তু এ পাহাড়ে কি আইন করে আজান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে? বাংলাদেশের কোনো ভৌগোলিক অংশে সেটা কি সম্ভব? (ভূমি নীতি এবং সাংবিধানিক সমতা আইনের ভিত্তিতে এই প্রশ্ন)

মামলায়-অভিযোগে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন, আজান দিয়ে, পরে ফেসবুক পোস্ট দিয়ে, বাড়তি আরও কিছু কথা বলে এরা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। আসলেই কি কথাগুলো এবং তাদের বাস্তব পরিস্থিতি ও পরিবেশ এতটা আতঙ্কের ছিল? আমার কাছে তো বরং সাধারণ ভ্রমণ এবং এর সঙ্গে কিছুটা দাওয়াতি আবেগ ও স্বপ্ন মেশানো কোমল অভিব্যক্তির চেয়ে বেশি কিছু মনে হয়নি এই ফেসবুক পোস্টটিকে। ফেসবুক পোস্টে কী বলা হয়েছে? স্ক্রিনশট এখানে আছে, তারপরও উল্লেখ করছি: "চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আযান দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ অতি শীঘ্রই সেখানে ইসলামের পতাকা উড়বে।"

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া সদ্য কৈশোর পেরুনো মাদ্রাসাছাত্রের পোস্টে এ-জাতীয় বাক্যকে এতটা ভয়ঙ্করভাবে দেখা বা চিহ্নিত করার কি কোনো দরকার আছে? এ-জাতীয় অভিব্যক্তি তো ভারতে গিয়ে মাথুরা, গয়া-কাশির সামনেও কেউ প্রকাশ করতে পারে। এ কথাটাকে এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কী আছে? বিশ্বব্যাপী ঈমানের আলো ও শান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার যে আকুতি মুসলমানের হৃদয়ে বাস করে, তারই একটি সাধারণ প্রকাশ এটি।

তারপরও কেউ যদি বলেন, চন্দ্রনাথ পাহাড়ের মতো হিন্দুদের প্রায় তীর্থভূমির মতো একটা জায়গায় এভাবে পোস্ট করে অভিব্যক্তি প্রকাশ না করাই মাদ্রাসাছাত্রদের জন্য সমীচীন ছিল, আমি তার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বাস্তবতার কারণে দ্বিমত করবো না। কিন্তু এটাকে এত বড় ইস্যু বানিয়ে, সংবাদপত্রে রংচঙা নিউজ করে, এদেরকে আটক করার কোনো প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয় না। তাই সন্দেহ জাগে, এগুলো/ এইসব অতি স্পর্শকাতরতা আসলে এখানকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটা দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যুদ্ধের পদধ্বনি কিনা।

[এই ইস্যুগুলো একদম নীরবে পার করা ঠিক না। এই নীরবতার ভিত্তির উপরই ধর্মীয় বঞ্চনা ও অধিকারের এবং সাংস্কৃতিক যুদ্ধের এক-একটা প্রাসাদ দাঁড়িয়ে যাবে। তাই প্রতিনিধিত্বশীল ফোরাম ও প্লাটফর্মগুলো থেকে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক আওয়াজ-আলোচনা দরকার।]

About

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার নাম। সব সংঘাত সংঘর্ষের চিরন্তন ও মহাসমন্বয় হচ্ছে ইসলাম। জীবনাদর্শ, জীবন ব্যবস্থা ও জীবন বিধান হিসেবে ইসলামে রয়েছে সব সমস্যার সঠিক সমাধান। এতে রয়েছে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি সমস্যার সমাধান আর মৃত্যুর পর আখেরাতের অনন্ত জীবনে নিশ্চিত সুখ-শান্তি লাভের উপায়।